পেকুয়ায় মোবাইল চুরির অপবাদে এবার ছেলেকে অপহরণ চেষ্টার অভিযোগ, দুইপক্ষে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:

পেকুয়ায় ছেলে মোঃ বেলাল মোবাইল চুরি করেছে মর্মে অপবাদ দিয়ে মা সাজেদা বেগমকে (৩৯) বাড়ির ভিতর বেঁধে রেখে নির্মমভাবে পেটানোর পর এবার অপর ছেলে মোঃ হেলালকে অপহরণের চেষ্টা চালিয়েছেন দূর্বৃত্ত। বৃহস্পতিবার বিকাল তিনটার দিকে রাজাখালী ইউনিয়নের নতুন ঘোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হেলাল একই এলাকার আবুল হাশেমের ছেলে।সাজেদা বেগম বলেন, গত এক সপ্তাহ আগে একই এলাকার মৃত কবির ফকিরের ছেলে মনির হোসেন ও তার ছেলে শাকিলের নেতৃত্বে একদল সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী দারালো কিরিচ নিয়ে আমার বাড়িতে যায়। আমার ছেলে বেলালকে খোঁজতে থাকে। ছেলেকে খোঁজার কারণ জানতে চাইলে বলে মোবাইল চুরি করেছে। ছেলে বাড়িতে নাই বলার সাথে সাথে তারা আমাকে জোরপূর্বক পাঁকড়াও করে তাদের বাড়িতে নিয়ে যায়। বাড়ির একটি রুমে আটকিয়ে রেখে মনির ও তার ছেলে শাকিলসহ আরো বেশ কয়েকজন মহিলা আমাকে ব্যাপক মারধর করে। প্রায় তিনঘন্টা আমাকে বেঁধে রেখে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করে। এরপর আমার পরিবারের সদস্যরা ঘটনাটি পেকুয়া থানার ওসিকে অবগত করলে তিনি তাৎক্ষনিকভাবে মেম্বার অলী আহমদকে মনিরের বাড়িতে পাঠিয়ে ওই সময় আমাকে উদ্ধার করেন। তিনিই আমাকে হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছিলেন। এ ঘটনার পর আমি বাদি হয়ে পেকুয়া থানায় তাদের বিরুদ্ধে একটি এজাহার দায়ের করি।
এদিকে এজাহার দেয়ার পর থেকে তারা আমাদের হুমকি দিয়ে আসছিল এজাহার প্রত্যাহার করার জন্য। আমরা তা প্রত্যাহার না করায় তারা ক্ষিপ্ত ছিল আমার ছেলেদের প্রতি। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিকেলে আমার ছেলে হেলাল বাড়ি থেকে বাজারের দিকে যাওয়ার সময় মনিরের দোকানের সামনে গেলে তারা আমার ছেলেকে অপহরণের চেষ্টা চালায়। ছেলে অপহরণ চেষ্টার অভিযোগ জানতে পেরে আমরা তাকে উদ্ধারের জন্য এগিয়ে আসি। ওই সময় তারা দুইজনসহ ইমরান নামে এক ছেলে আমাদের উপর ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে। একপর্যায়ে বিষয়টি সাবেক ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলামকে স্থানীয়রা অবগত করলে তিনি দুইপক্ষকে ঘটনা থেকে বিরত করার চেষ্টা করেন। ঘটনায় দুই পক্ষকে বিরত করতে গিয়ে মনির মেম্বারের উপরও হামলার চেষ্টা করে।
সাবেক ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম বলেন, মনির দীর্ঘদিন ধরে দোকানে মাদক বিকিকিনি করে আসছিলেন। মাদক বিক্রি না করার জন্য তাকে বারবার বারণ করেছিলাম। বারণ করায় সে আমার প্রতি ক্ষিপ্ত ছিল। এদিকে আজকে দুইপক্ষে ঘটনা ও গুলিবর্ষণ হচ্ছে জানতে পেরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দুইপক্ষকে নিভৃত করার চেষ্টা করি। এক্ষেত্রে মনির আগের ক্ষোভের জেরে আমাকে হামলার চেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে সাজেদা বেগম গংকে মিথ্যা মামলায় জড়াতে তার দোকানের মালামাল নিজেরা এলোমেলো করে দেন। অথচ সাজেদা বেগমকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে বেশ মারধর করে মনির। বিষয়টি এখনো থানার বিবেচনাধীন আছে। এরই মাঝে মনিরের নেতৃত্বে আরেকটি ঘটনা ঘটালো।  
এবিষয়ে পেকুয়া থানার ওসি কামরুল আজম বলেন, করোনা মহামারীতে এরকম ঘটনা কারো কাম্য নয়। দুইপক্ষে ঘটনা হচ্ছে তা জানতে পেরে তাৎক্ষনিকভাবে আমি ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। ঘটনাটি তদন্ত করে পরে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *