বারবাকিয়ায় চৌকিদার আবদুল কাদেরের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক:
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া ইউপির ৭নং ওয়ার্ডের চৌকিদার মাহামুদুল করিম প্রকাশ আবদুল কাদেরের বিরুদ্ধে স্থানীয় হতদরিদ্র জনগোষ্টির অভিযোগের শেষ নাই।
হতদরিদ্র মানুষদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ১০টাকা দামে চালের কার্ড তৈরি করা, টাকা না দিলে কার্ড থেকে নাম কেটে দেয়া, নতুন কার্ড করে দেয়ার কথা বলে টাকা আদায়, বয়স্ক,বিধবা, মাতৃত্বকালীণ ভাতা ও প্রতিবন্ধী ভাতাসহ সরকারি বিভিন্ন ভাতার জন্য মনোনীত ব্যক্তিদের কাছ থেকে টাকা আদায় করার মত গুরুতর অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এমনকি সরকারি ঘর দেয়ার কথা বলেও টাকা আদায় করার মত গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
গতকাল স্থানীয় বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের কাছে এমন অভিযোগ করেন।
বারবাকিয়া নোয়াখালী পাড়ার হতদরিদ্র বাসিন্দা বাদশা মিয়ার ছেলে রেজাউল করিম বলেন, আমি রিক্সা চালিয়ে তার আয় দিয়ে সংসারের ব্যয় নির্বাহ করে থাকি। বিগত কয়েকবছর ধরে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দেয়া বিশেষ উপহার ১০টাকা দামের চালের কার্ড পেয়ে তা ক্রয় করে সংসারের আর্থিক সমস্যা দূর করছিলাম। কিছুদিন আগে চৌকিদার আবদুল কাদের আমাকে ডেকে নিয়ে বলেন, তোমার কার্ড ঠিক রাখতে চাইলে ১হাজার টাকা দিতে হবে। আমি বললাম, ‘রিক্সা চালিয়ে চলি ১হাজার টাকা কোথায় থেকে দিব?’ তারপর তিনি আমার নামটি কেটে দিয়ে তার ভাইয়ের নামে কার্ডটি করে দিয়েছে। যার কারণে আমি চরমভাবে কষ্টভোগ করছি। ঘটনাটি স্থানীয় ইউপি সদস্য সরওয়ার আলমকে অবহিত করলে তিনি চৌকিদারকে ডেকে এর কারণ জানতে চাইলে তিনি উল্টো তাকেও অশ্লীল ভাষায় কথা বলেন। তার বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে বিভিন্ন রকমের হুমকি দিয়ে থাকে।

একই এলাকার মৃত ইলিয়াছের স্ত্রী ফরিদা বেগম বলেন, চৌকিদার আবদুল কাদের আমার নামে বিধবা কার্ড করে দেয়ার কথা বলে ২৫শ টাকা নেন। কিন্তু বিধবা কার্ডও করে দেননি টাকাও ফেরৎ দেননি। 
ইমাম শরীফের স্ত্রী পারভিন আক্তার বলেন, আমি হতদরিদ্র মানুষ। ঘর নিয়ে অনেকদিন ধরে কষ্ট পাচ্ছিলাম। একদিন চৌকিদার আবদুল কাদের এসে বললেন সরকার গরীবদের ঘর দিচ্ছেন। ১০হাজার টাকা দিলে তোমাকে একটি ঘর ব্যবস্থা করে দিব। অনেক কষ্টে তার হাতে ১০ হাজার টাকা দিয়েছিলাম ঘর পাওয়ার আশায়। ঘরও ফেলাম না টাকাও পায়নি। 
ঠিক এরকম আরো অভিযোগ করেছেন মোজাফ্ফরের ছেলে মোকাম্মেল, হোছন আহমদের মেয়ে মর্তুজা বেগম, মৃত কলিম উল্লাহর স্ত্রী নাসিমা বেগম।  স্থানীয় ইউপি সদস্য সরওয়ার বলেন, চৌকিদার আবদুল কাদের এরকম অন্যায় করছেন এমন অভিযোগ আমাকে অনেকে জানিয়েছেন। বিষয়টি তাকে প্রশ্ন করায় আমার বিরুদ্ধেও অশ্লীল কথা বলা শুরু করেছেন। 
এবিষয়ে জানতে চাইলে বারবাকিয়া ইউপির প্যালেন আনিসুর রহমান বলেন, বিষয়টি স্থানীয় ভুক্তভোগীরা আমাদেরকে জানিয়েছেন। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *