চেয়ারম্যান ওয়াসিমের প্রচেষ্টায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে জনসাধারণকে আশ্রণ কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে

বিশেষ প্রতিবেদক;
কক্সবাজারের পেকুয়ায় মগনামার চেয়ারম্যান শারাফত উল্লাহ ওয়াসিম  ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের আশ্রয়ণ কেন্দ্রে সরিয়ে নিতে নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। 
মঙ্গলবার (১৯মে) রাত থেকে ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি থেকে বাঁচাতে উপকূলীয় ইউনিয়ন মগনামা, উজানটিয়া ও রাজাখালীর জনসাধারণকে  আশ্রয়ণ কেন্দ্রে সরিয়ে নেয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসন থেকে নির্দেশ দেয়া হয়।এ নির্দেশনার আলোকে মগনামা ইউনিয়নের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে জনসাধারণকে সরিয়ে নিচ্ছে চেয়ারম্যান ওয়াসিম।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, মগনামা ইউনিয়নের ধারিয়াখালী এলাকার নদীর চরে পুনর্বাসিত হয়ে আসা ৬৪টি পরিবার ও সাগর উপকূল চেপ্টাখালীতে বসবাস করা ১৮টি জেলে পরিবারকে আশ্রয়ণ কেন্দ্রে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ চৌধুরী ওয়াসিম নিজে উপস্থিত থেকে এসব জেলে পরিবারের আশ্রয়ণ কেন্দ্রে অবস্থান নিশ্চিত করেছেন। করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মটকাভাঙা আশ্রয়ণ কেন্দ্র ও মগনামা শাহ রশিদিয়া আশ্রয়ণ কেন্দ্রকে ঐ জনসাধারণের দূর্যোগকালীন সময় পর্যন্ত অবস্থানের জন্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে।
এদিকে উজানটিয়া ও রাজাখালী ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সাগর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানান স্ব-স্ব ইউপি’র চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম ও ছৈয়দ নুর। ইতিমধ্যে খুলে দেয়া হয়েছে এসব ইউনিয়নের সকল আশ্রয়ণকেন্দ্র।

মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ চৌধুরী ওয়াসিম বলেন, সাগর ও নদীর তীরে বসবাস করা ছিন্নমূল  মানুষেরা ঘূর্ণিঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই আগেভাগে তাঁদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। একইসাথে উপকূলীয় এলাকার সকল বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে কাজ চলছে। কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের সাংসদ জাফর আলমের নির্দেশে আশ্রয়ণ কেন্দ্রে আসা মানুষের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণের উদ্যোগও নেয়া হয়েছে।
পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈকা সাহাদাত বলেন, ঘূর্ণিঝড় আম্পানের ফলে পেকুয়ায় সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমাতে কাজ করে যাচ্ছে উপজেলা প্রশাসন। উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের সচেতনতায় মাইকিং করা হচ্ছে। খুলে দেয়া হয়েছে ৭২টি আশ্রয়ণ কেন্দ্র।
অপরদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস থেকে জানা গেছে, সুপার সাইক্লোন আম্পান ২০ মে বিকেল বা সন্ধ্যার মধ্যে খুলনা ও চট্টগ্রামের মধ্যবর্তী অঞ্চল দিয়ে বাংলাদেশ অতিক্রম করতে পারে। তবে আবহাওয়া অধিদপ্তরের গতরাত নয়টায় বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বুধবার সন্ধ্যার মধ্যে সুন্দরবনের কাছ দিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, মঙ্গলবার নয়টায় আম্পান পটুয়াখালীর পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৬১০ কিলোমিটার দক্ষিণ দক্ষিণ–পশ্চিমে অবস্থান করছিল। একই সময় মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ৬১৫ কিলোমিটার দক্ষিণ দক্ষিণ–পশ্চিমে এবং চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর থেকে ৭৪০ ও কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত থেকে ৬৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণ–পশ্চিমে অবস্থান করছিল আম্পান। সুপার সাইক্লোন কেন্দ্রের ৮৫ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ২২০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। আম্পানের প্রভাবে সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, ভোলা, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর এবং এসব জেলার অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরাঞ্চলে ৫ থেকে ১০ ফুটেরও বেশি উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাস হতে পারে। এসব জেলার অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরাঞ্চলে ১৪০ থেকে ১৬০ মিটার বেগে ঝড়ো বাতাসসহ অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। তাই উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে থাকা নৌযানগুলোকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *