পেকুয়ায় এজাহার দায়েরে ক্ষিপ্ত হয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের উপর হামলার চেষ্টা

বিশেষ প্রতিবেদক;

কক্সবাজারের পেকুয়ায় সাবেক ইউপি সদস্যের মালিকনাধীন জমি জবর দখল চেষ্টা ও হামলার ঘটনায় এজাহার দায়ের করায় ক্ষিপ্ত হয়ে ফের হামলা চেষ্টা চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এনিয়ে ভুক্তভোগী ওই সাবেক ইউপি সদস্য ও তাঁর পরিবার চরম আতংকে দিন কাটাচ্ছে।

মঙ্গলবার (২জুন) বিকেলে টইটং ইউনিয়নের ঝুম পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এর আগে গত সোমবার সাবেক ইউপি নুরুল কবিরের জমিতে জোরপূর্বক মেশিন বসিয়ে পাহাড়ি ছড়া থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের চেষ্টা করে। এতে বাঁধা দিতে গেলে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসীরা ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে। এসময় মারধর করে আহত করেছে সাবেক ইউপি সদস্য নুরুল কবিরকে।

আহত সাবেক ইউপি সদস্য নুরুল কবির একই এলাকার মৃত মোজাহের আহমদের ছেলে।

আহত ইউপি সদস্যের ছেলে মোঃ শাহরিয়ার কবির বাবর বলেন, জমি জবরদখল চেষ্টা ও মারধরের ঘটনায় সোমবার রাতে আমার বাবা বাদী হয়ে ৭জনের বিরুদ্ধে পেকুয়া থানায় এজাহার দায়ের করেন। মঙ্গলবার বিকেলে ঘটনা তদন্তে ঘটনাস্থলে যান পেকুয়া থানার এসআই সুমন সরকার। তিনি তদন্ত করে চলে যাবার পরপর হামলাকারী সন্ত্রাসীরা আমাদের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের শাসিয়ে যায়। এসময় তাঁরা এজাহার প্রত্যাহার না করলে খুনখারাবির মতো ঘটনা ঘটাবে বলেও হুমকি দেয়। এরপর থেকে আমার পরিবারের সদস্যরা আতংকগ্রস্ত হয়ে পড়েছে।

সাবেক ইউপি সদস্য নুরুল কবির বলেন,
বেশকিছু দিন ধরে আমার জমি জবর দখল করে বালু উত্তোলনের মেশিন বসানোর চেষ্টা করে আসছিল বাঁশখালী পুঁইছড়ি এলাকার খুইল্যা মিয়ার ছেলে মোঃ খোকন ও বাবুলসহ একদল অস্ত্রধারী। ঘটনার দিন ওই দুই ব্যক্তি অস্ত্র সজ্জিত হয়ে ঝুম পাড়া এলাকার অলি আহমদের ছেলে জয়নাল ও জাকের উল্লাহ, আমির হোছাইনের ছেলে শাহাদতসহ একদল অস্ত্রধারী আমাদের জমিতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের জন্য মেশিন বসানোর চেষ্টা করে। বিষয়টি স্থানীয়রা আমাদের অবগত করলে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে জমি জবর দখল করার কারণ জানতে চায়। এ সময় তারা ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে মারধর করে গুরুতর আহত করে। এসময় স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে তারা ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে এলাকায় আতংক সৃষ্টি করে।

তিনি আরো বলেন, দিনদুপুরে নারকীয় এ সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ঘটানো হলেও এখনো মামলা নেয়নি পুলিশ। তাই সন্ত্রাসীরা আমার পরিবারের সদস্যদের অব্যাহত হুমকি দিচ্ছে। তদন্তকালে পুলিশকে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা সাক্ষ্য দিয়েছেন। টইটং ১নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল, বনবিভাগের হেডম্যান নুরুল আলম ও স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল কাশেম আমাকে মারধর, জমি জবরদখল ও গুলিবর্ষণের সাক্ষ্য পুলিশকে দিয়েছেন। এরপরেও পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করছে তা আমার বোধগম্য নয়। এসব সন্ত্রাসীদের দ্রুত আইনের আওতায় না আনলে আমার পরিবারের বড় ধরণের ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।

এবিষয়ে জানতে চাইলে পেকুয়া থানার ওসি কামরুল আজম বলেন, হামলার বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনা সত্য প্রমাণিত হলে, মামলা রেকর্ড করা হবে। ভুক্তভোগীর পরিবারকে হুমকির বিষয়ে আমাকে জানানো হয়নি। তারপরও বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *