কাজিপুরে বৃদ্ধা সামাদ ভুইয়ার মৃত্যু.. ষ্ট্রোক করে মারা গেলেও ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টায় হাফিজ গং

কাজিপুর থেকে ফিরে জাহিদ হাসানঃ
রমজানের ১৫ তারিখে এক তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিরাজগঞ্জের কাজিপুর থানার পূর্ব মাজনা গ্রামের সামাদ ভুইয়া ও জয়নালের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়, আর এই কথা-কাটাকাটির মুহুর্তে সামাদ ভুইয়ার দুই ছেলে জয়নালদের উপর চড়াও হয়, ফলে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে হাতাহাতি পরে এটা সংঘর্ষে রুপ নেয়। সে সময় মসজিদ থেকে ফিরতে ছিলেন সামাদ ভুইয়া (৬৫)। তিনি সারাদিন রোযায় ছিলেন, এই মারামারিতে তিনিও অংশ নেন, বাবাকে এভাবে আসতে দেখে তার ছেলে মামুন বাবাকে হাত দিয়ে মানা করেন, এরপরেও ছেলেদের মারামারির মধ্যে ঢুকে যায় তিনি। এরকম ঘটনা দেখতে পেয়ে তিনি ষ্ট্রোক করে মাটিতে পড়ে যান এবং তখনও উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বিদ্যমান রয়েছে। ঘন্টা খানেক পর স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ থামিয়ে দেন কিন্তু ততক্ষণে সামাদ ভুইয়া না ফেরার দেশে চলে যান।
এরকম তথ্য সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে। স্থানীয় অনেকের সাথে কথা বলে উপরোক্ত কথাগুলো জানা যায়। স্থানীয়দের বরাত দিয়ে আমাদের প্রতিবেদক আরও জানান যে, সামাদ ভুইয়ার এক বোবা মেয়ে আগের দিন আম কুড়াতে যায়, আর উক্ত দুই গ্রুপের আগে থেকেই এলাকার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভাবে মারামারি লেগেই থাকত। কিন্তু এবার যে সামান্য বিষয় নিয়ে সামাদ ভুইয়া এভাবে চলে যাবে এটা কেউই ভাবে নি। কিন্তু উক্ত ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে সামাদ ভুইয়ার ভাই স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি মেম্বার হাফিজুর রহমান গং সাথে তার আরও কিছু ভাই ভাতিজা ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য ষ্ট্রোকে মারা যাওয়া সামাদ ভুইয়াকে হত্যা বলে চালিয়ে নিচ্ছে। এবং তার আর এক ভাতিজা জামাত শিবিরের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার জন্য কয়েকটি পত্রিকা ও মানবাধিকার সংস্থার লোকজনকে ধরে ভুয়া নিউজ করাইয়া এলাকায় আতংক সৃষ্টি করাচ্ছেন বলে স্থানীয়রা জানান। একটি টিভি চ্যানেলে টাকা দিয়ে ভুয়া মিথ্যা নিউজ প্রকাশ করাইয়া সেটা স্থানীয় মানুষদের মাঝে ছড়াচ্ছেন। জানা যায় হাফিজুর রহমানের এক ভাতিজা নজরুল ইসলাম ঢাকায় হুন্ডির ব্যবসা করেন, জামাত শিবিরের এই কর্মী নিজেকে আওয়ামী লীগের একজন সদস্য পরিচয় দিয়ে দেদারসে হুন্ডির ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অনেকেই জানান। শিবিরের এই কর্মী হাফিজুরকে সকল সহায়তা দিয়ে মামলাটিকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করতেছে। এ ব্যাপারে আমরা মামলার তদন্তকারী অফিসারের সাথে কথা বললে উনি জানান যে, পোস্টমটেম রিপোর্ট এর উপর ভিত্তি করেই মামলার অগ্রগতি বলা যাবে, তবে একজন আসামী গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। তবে পাঠকবৃন্দরা স্থানীয়রা সঠিক তদন্ত করে মামলাটির দ্রুত নিস্পত্তি করার জন্য দাবি করেছেন সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাদের কাছে। আর হ্যা জামাত শিবিরের এজেন্ডা নজরুল ইসলাম কিভাবে হুন্ডি ব্যবসা চালাচ্ছেন, তার বিস্তারিত তুলে ধরব আগামী সংখ্যায়, ততক্ষণে সাথে থাকুন…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *