পেকুয়ায় লবণচাষী করম আলী রায় নিয়ে ঘুরছে প্রশাসনের ধারে ধারে!

বিশেষ প্রতিবেদক;

কক্সবাজারের পেকুয়ায় লবণচাষী করম আলী ইউনিয়ন পরিষদের দেয়া রায় নিয়ে ঘুরছে প্রশাসনের ধারে ধারে।পাচ্ছে না কোন ধরণের সুরাহা।জবর দখলকারীরা এতই ভয়ংকর যে মানছেন না পরিষদের প্রদত্ত রায়।এমনকি মানছেন না পুলিশ কিংবা প্রশাসনের কোন বারণ।এই ভয়ংকর জবর দখলকারীর কবল থেকে তার বহু শ্রম ও অর্থের বিনিময়ে অর্জিত পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে প্রাপ্ত দীর্ঘ মেয়াদী ইজারাকৃত লবণচাষ উপযোগী খাস জমি।এক অফিস থেকে আর এক অফিস।যাচ্ছে তদবিরের জন্য জনপ্রতিনিধি কিংবা রাজনৈতিক নেতাদের কাছে।এরপরেও পাচ্ছেনা কোন সন্তোসজনক কোন প্রকার সুরাহা। ভবঘুরের মত ঘুরতে ঘুরতে দ্বারস্ত হলেন সংবাদকর্মীর।কান্নাজড়িত কন্ঠে প্রশ্ন করলেন এ প্রতিবেদকের কাছে কোথায়, কি পন্থায় গেলে পাবে এ জবর দখলকারীর থেকে মুক্তি?আদৌ কি ফিরে  পাবে করম আলীর হাড়ভাংগা শ্রম ও কষ্টে অর্জিত জমি?উপরোক্ত কথাগুলো বলছিলাম  উপজেলার রাজাখালী  মাতবর পাড়া এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে করম আলীর। তার লীজকৃত জমি  বিগত কয়েক বছর ধরে একই এলাকার মৃত ইসমাঈলের ছেলে জালাল আহমদ গং জবর দখল করে রেখেছে। করম আলীর অভিযোগের কথায় সরেজমিন গিয়ে দেখলাম জবর দখলকারী জালাল আহমদ গংয়ের ভয়ংকর সন্ত্রাসী আচরণ।তারা কথায় কথায় বলেন কোন পুলিশ,সাংবাদিক ও আইন কানুন বুজি না এটা আমরা জনৈক আমেরিকা জামাল(আমেরিকা প্রবাসী) থেকে ক্রয় করেছি। সুতরাং কোন লিজ বা কাগজ পত্র আমরা মানিনা।জবর দখলকারী জালালকে বিনয়ী অনুরোধ করে জমি ক্রয়ের কাগজ দেখাতে বললে দেখাতে পারে নি।অথচ বলে এটা তার ক্রয়কৃত জমি।এ জমি নিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য ওসমানের কাছে অভিযোগ জানালে সে উভয় পক্ষকে তাদের দাবীর কাগজ পত্র দেখাতে বললে জবর দখলকারী জালাল আহমদ কোন কাগজপত্র উপস্থাপন করতে পারেনি বিধায় ইউপি সদস্য ওসমান ভুক্তভোগী করম আলীর অনুকুলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রদত্ত লীজের বৈধ কাগজ যাচাই বাচাই করে ঐ জমির বৈধ মালিক করম আলী বলে রায় প্রচার করে এবং অবৈধ জবর দখলকারী জালাল আহমদকে দখল ছেড়ে দেয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন।ইউপি সদস্য ওসমানের রায়কে অবজ্ঞা করায় গ্রাম আদালতের দ্বারস্ত হন করম আলী।গ্রাম আদালত অভিযোগ আমলে নেন।যার নং ৪৯/১৯। গ্রাম আদালত উভয় পক্ষকে তাদের মালিকানার স্বপক্ষে কাগজ পত্র উপস্থাপনের নির্দেশ দিলে ধার্য্যদিনে করম আলী তার মালিকানার স্বপক্ষে কাগজ উপস্থাপন করেন।কিন্তু বিবাদী জালাল আহমদগং কয়েকবার তাদের মালিকানার স্বপক্ষে কাগজ পত্র উপস্থাপনের সময় নিয়ে কোন প্রকার বৈধ কাগজ পত্র দেখাতে পারে নাই। শেষে গ্রাম আদালতের বিচারক দীর্ঘ শুনানীর পর বিগত ২০১৯ সালের ২রা মে করম আলীর অনুকুলে চুড়ান্ত রায় প্রচার করে এবং বিবাদী জালাল আহমদগংকে বিরোধীয় জমির দখল ছেড়ে দেয়ার নির্দেশ দেন।বিবাদী জালাল আহমদগং গ্রাম আদালতের রায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এখনো পর্যন্ত জমির দখল ছেড়ে দেননি।ভূমি দস্যু জালাল আহমদগংয়ের এহেন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডকে মুখ বুজে সহ্য করে যাবে এ সমাজ বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা প্রশ্ন সচেতন মহলের।

করম আলী বলেন, আমার ভোগদখলীয় জমি জবর দখল করার চেষ্টা করে আসছিল একই এলাকার মৃত মোঃ ইসমাঈলের ছেলে জালাল আহমদ গং। জবর দখল চেষ্টা অব্যাহত রাখায় প্রথমে স্থানীয় ইউপি সদস্য বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করি। তিনি বিচারক বোর্ড গঠন করে দীর্ঘ শুনানী শেষে জমি আমার বলে প্রতিয়মান হলে রায় প্রদান করেন। ওই রায় অমান্য করে তারা আবারো জবর দখল চেষ্টা অব্যাহত রাখায় গ্রাম আদালতে বিচার দায়ের করি। সেখানেও কাগজপত্র বিশ্লেষণ করে দীর্ঘ শুনানী শেষে বিরোধীয় জমি আমার বলে প্রতীয়মান হলে আমার পক্ষে রায় প্রদান করেন। সর্বশেষ সেই রায়েব অনুকূলে আমি জমিতে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দিই। সেই সাইনবোর্ড রাতের আধারে নিয়ে যাওয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে তারা। এছাড়াও তারা আবারো ঘেরাও ভাংচুর করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এবিষয়ে আমি থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমি স্থানীয় প্রশাসনের কাছে সহযোগিতা কামনা করছি।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রায়ের সত্যতা এবং ভুক্তভোগী করম আলীর লীজকৃত জমি সন্ত্রাসী জালাল আহমদ গং জবর দখল করার চেষ্টা করে যাচ্ছে বলে জানান।তারা গ্রাম আদালতের রায় অমান্য করে করম আলীকে হয়রানী করে যাচ্ছে।গ্রাম আদালত শুধু রায় প্রচার করতে পারে কিন্তু উচ্ছেদ কিংবা প্রতিরোধ করতে পারে না। তাই গ্রাম আদালতের রায় নিয়ে উচ্চ আদালতের আশ্রয় নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *