পেকুয়ায় এবার সদর আ’লীগের সভাপতিকে হত্যা চেষ্টা

নাজিম উদ্দীন, পেকুয়া

কক্সবাজারের পেকুয়ায় এবার সদর আ’লীগের সভাপতি ও সদর ইউপির সাবেক (ভারপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যান এম.আযম খানকে (৫০) হত্যা চেষ্টা চালিয়েছে সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার (৪সেপ্টম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে সদর ইউপির ছিরাদিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পেকুয়া থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করেছে। বর্তমানে তিনি পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। আযম খান ছিরাদিয়া গ্রামের মৃত,জিন্নাত আলীর ছেলে। এদিকে আ’লীগ নেতা আযম খানের উপর ন্যাক্কারজনক হামলার খবরে ক্ষমতাসীন দল আ’লীগের নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মীরা তাকে দেখতে হাসপাতালে ছুটে গেছেন। এ সময় নেতাকর্মীরা হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দাবী করেছে। আ’লীগ নেতাকর্মীদের উপর বার বার ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনায় এবং তাদের গ্রেপ্তার দাবীতে তারা দলীয় পক্ষ থেকে কঠোর কর্মসুচি দিবেন জানিয়েছেন। পেকুয়া থানার ওসি কামরুল আজম জানায়, খবর পেয়ে তাৎক্ষনিক পুলিশ পাঠিয়ে উদ্ধার করেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। জানা গেছে, শুক্রবার দুপুরে আ’লীগ নেতা আযম খান নিজ বাড়ি ছিরাদিয়া থেকে পেকুয়া বাজারে আসছিলেন। পথিমধ্যে ছিরাদিয়া কালভার্ট সংলগ্ন এলাকায় পৌছলে পুর্ব থেকে ওতপেতে থানা দুর্বৃত্তরা তাকে হামলা চালিয়ে আহত করে। আ’লীগ নেতা আযম খান জানায়, আমি বাড়ি থেকে বের হয়ে পেকুয়া বাজারে যাচ্ছিলাম। ছিরাদিয়া এলাকার মোজাহের আহমদের ছেলে কায়সার, আনছার, আক্কাস, আবছারসহ দুর্বৃত্তরা দিন দুপুরে আমার চিংড়ি ঘের থেকে মাছ লুট করছিল। আমি মাছ না শিকার করতে বারন করি। এ সময় তারা লাথি,ঘুষিসহ এলোপাতাড়ি মারধর করে। তারা আমাকে টানা হেচড়া করে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পাশের চিংড়ি ঘেরের বাসা থেকে লোকজন এগিয়ে আসলে তারা সটকে পড়ে। তারা নিশ্চিত হত্যা করতে আমাকে মারপিট করে। এদিকে সৃষ্ট ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। আ’লীগ নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন পেকুয়ায় দিন দিন আ’লীগ নেতাকর্মীদের উপর অত্যাচার,নির্যাতন বেড়ে চলেছে। মামলা, হামলা আ’লীগ নেতাকর্মীদের উপর নিত্যদিনের ঘটনা। নির্যাতনের ষ্ট্রীম রোলার চলছে নেতাকর্মীদের উপর। গত এক সপ্তাহ আগে সদর ৩নং ওয়ার্ড আ’লীগের সহ-সভাপতি আলী হোসেন মুন্সীকে কুপিয়ে একটি হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে সন্ত্রাসীরা। মগনামা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি মনছুর আলম নানক ও তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যকে কয়েক মাস আগে কুপিয়ে জখম করে। তিন দিন আগে তাকে সহকারী কমিশনার (ভুমি) মিকি মার্মার সামনে হামলার চেষ্টা চালায় দুর্ধর্ষ শিবির ক্যাডাররা। এভাবে চলছে নেতাকর্মীদের নির্যাতনের খড়ক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *