কুতুবদিয়ায় নিহত বিট কর্মকর্তার পরিবারে প্রধান বন সংরক্ষক, পিতার হাতে ১০ লক্ষ টাকার চেক হস্তান্তর

নাজিম উদ্দিন,পেকুয়া
কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় নিহত বনবিট কর্মকর্তা ইউসুফ উদ্দিনের পরিবারের মাঝে প্রধান বন সংরক্ষক। পিতার হাতে তুলে দিয়েছেন ১০ লক্ষ টাকার চেক। মানবিক সহায়তা হিসেবে এ অর্থ প্রদান করা হয়েছে। বনবিভাগের প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমির হোসাইন চৌধুরী চেক হস্তান্তর করতে দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়া ইউসুফের বাড়িতে গিয়েছেন। তার অধিদপ্তর থেকে প্রেরিত ১০ লক্ষ টাকার চেক নিহত বনবিট কর্মকর্তা ইউসুফ উদ্দিনের পরিবারকে হস্তান্তর করেন। শুক্রবার (১১সেপ্টম্বর) সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে কুতুবদিয়া উপজেলার বড়ঘোপ ইউনিয়নের উত্তর মগডেইল গ্রামের নিহত বনবিট কর্মকর্তা ইউসুফ উদ্দিনের বাড়িতে যান বনবিভাগের উচ্চ পর্যায়ের একটি টিম। এর নেতৃত্ব দেন প্রধান বন সংরক্ষক মো.আমির হোসাইন চৌধুরী। নিহত ইউসুফ উদ্দিনের পিতা নিজাম উদ্দিনের হাতে তিনি ১০ লক্ষ টাকার চেক তুলে দিয়েছেন। তারা সেখানে প্রায় আধা ঘন্টা সময় কাটান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বন সংরক্ষক, চট্টগ্রাম অঞ্চলের আব্দুল আওয়াল সরকার, উপকূলীয় বনবিভাগ চট্টগ্রামের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এস,এম গোলাম মাওলা,চট্টগ্রাম দক্ষিন বনবিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা শাহ মোহাম্মদ মোজাম্মেল, উপকূলীয় বন বিভাগ কক্সবাজারের সহকারী বন সংরক্ষক সাইফুল ইসলাম, উপকূলীয় বন বিভাগ কুতুবদিয়ার রেঞ্জ কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন,ছনুয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা জুয়েল চৌধুরীসহ মহেশখালীর রেঞ্জ কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমির হোসাইন জানান, বন দস্যুদের হাতে নির্মমভাবে খুন হয়েছেন মহেশখালী বনবিট কর্মকর্তা ইউসুফ উদ্দিন। আমরা আর্থিক সহায়তা হিসেবে বনবিভাগের পক্ষ থেকে ১০ লক্ষ টাকার চেক হস্তান্তর করেছি। সরকারের পক্ষ থেকেও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। সরকার ও বনবিভাগের পক্ষ থেকে ইউসুফের পরিবারের জন্য সব ধরনের সহযোগিতা দেয়া হবে। আমরা বনবিভাগের উচ্চ পর্যায়ের টিম ইউসুফের বাড়িতে গিয়েছি। তার পরিবারের সাথে কথা হয়েছে। প্রসঙ্গত গত ৩০ জুলাই মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের বড়হাড়া করইবুনিয়া নামক এলাকায় বনদস্যুরা পিটিয়ে আহত করে মহেশখালী বনবিট কর্মকর্তা ইউসুফ উদ্দিনকে। ৬ আগষ্ট চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। বনবিভাগের জায়গা জবর দখল করে পানের বরজ করছিল চিহ্নিত বনদস্যুরা। ওইদিন তিনি পানের বরজ জায়গা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন। এদিকে নিহত বনবিট কর্মকর্তা ইউসুফ উদ্দিনের স্বজনদের সাথে আলাপ শেষে সাড়ে ১১টার দিকে কুতুবদিয়া বনবিট কার্যালয় পরিদর্শনে যান। বিট কার্যালয় প্রাঙ্গনে একটি গাছের চারা রোপন করেন। ১২টার দিকে তারা কুতুবদিয়া ত্যাগ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *