পেকুয়ায় পিকআপ ভর্তি চোরাই কাঠ জব্দ

জয়নাল আবেদীন, ইবিএন:

কক্সবাজারের পেকুয়ায় পিকআপ গাড়ী ভর্তি প্রায় লক্ষাধিক টাকার চোরাই গাছ জব্দ করা হয়েছে। তবে  চালক পালিয়ে গেছে। তার নাম ঠিকানা পাওয়া যায়নি। বৃহষ্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে পেকুয়ার ইউএনও মোতাছেম বিল্যার সহযোগিতায় বারবাকিয়ার রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল গফুর মোল্লা ও পেকুয়া থানা পুলিশ সড়ক থেকে গাছগুলি জব্দ করে। গাছগুলির আনুমানিক মুল্য লক্ষাধিক টাকা বলে ধারনা করা হচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন গাছ ব্যবসায়ী জানান, চট্টগ্রামের আজিজনগর এলাকা থেকে ঢাকা-ল-২৩৭ নম্বরের পিকআপ গাড়ী  করে  পেকুয়া সদর ইউনিয়নের শেখেরকিল্লাঘোনা এলাকার উকিল আহমদের ছেলে মনজুর আলম এসব গাছগুলি পেকুয়ায় আনছিলেন। আজিজনগর এলাকার বাবুল প্রকাশ গেইট বাবুল গাছগুলি পাচার করছিলেন। বারবাকিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল গফুর জানায়, একটি গাছ চোর সিন্ডিকেট রাতে আজিজনগর থেকে সাইজকরা আকাশমনি গাছগুলি পিকআপ যোগে পেকুয়ায় পাচার করছিল। খবর পেয়ে আঞ্চলিক মহাসড়ক (এবিসি) সদর ইউপির মৌলভী পাড়া চৌরাস্তা পয়েন্টে গাড়ি ভর্তি গাছ জব্দ করি। পরে জব্দকৃত গাছ ও গাড়ী বিট অফিসে নিয়ে আসি। তিনি জানান, এ বিষয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হবে।  পেকুয়া থানার এসআই আশরাফ জানায়, গাছভর্তি একটি পিক আপ গাড়ী জব্দ করা হয়েছে। এসব চোরাই গাছ চট্টগ্রামের আজিজ নগর এলাকা থেকে আনা হচ্ছে। গাড়ী ভর্তি গাছগুলি রেঞ্জ কর্মকর্তার হেফাজতে দেয়া হয়েছে। পেকুয়া উপজেলা বির্বাহী কর্মকর্তা মোতাছেম বিল্যাহ জানায়, রেঞ্জ কর্মকর্তাকে গাছগুলি জব্দ করতে বলেছি। জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা হবে। জানাগেছে, প্রতিদিন রাতে চট্টগ্রামের আজিজ নগর,বান্দরবান, ফাইতং সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে দিনে ও গভীর রাতে গাড়ী যোগে চোরাই গাছ পাচার করছিল একটি গাছ পাচার সিন্ডিকেট। তারা পেকুয়া, কুতুবদিয়ায় বিভিন্ন স’মিলে এসব গাছ মজুদ রেখে বিক্রি করে। পেকুয়ায় পেকুয়া ও কুতুবদিয়ায় ১৫/২০জন গাছ ব্যবসায়ী রয়েছে। তারা স’মিলের মালিকও। একেকজন ব্যবসায়ীর একাধিক স’মিলও রয়েছে। এছাড়া তারা পেকুয়ার টইটং,শিলখালী ও বারবাকিয়া থেকে বনবিভাগের গাছ কেটে স’মিলে মজুদ করে। পরে চিরাই করে চড়া দামে বিক্রি করে। পেকুয়া বাজারের গাছ ব্যবসায়ী ফোরকান ওই সিন্ডিকেটের একজন। পেকুয়া বাজার ও বারবাকিয়া বাজার সংলগ্ন এলাকায় তার ২টি স’মিল রয়েছে। তার নেতৃত্বে চোরাই গাছ ও কাঠ মজুদ ও পাচার করা হয় বলে একাধিক ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *