পেকুয়ায় এবার মাতামুহুরী নদী থেকে মেশিন বসিয়ে বালু তুলছেন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান!

নাজিম উদ্দিন, পেকুয়া
কক্সবাজারের পেকুয়ায় মাতামুহুরী নদীতে শ্যালো মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন অব্যহত রেখেছে। এবার এ অবৈধ কাজে জড়িয়ে পড়ছে খোদ পেকুয়া উপজেলা পরিষদ মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান উম্মে কুলসুম মিনু ও মেহেরনামা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামসুদৌহা। গত একমাস ধরে তারা অবৈধ উপায়ে নদী থেকে বালু উত্তোলন করে পাচার করছে। স্থানীয় সাংসদ জাফর আলমের নাম ভাঙ্গিয়ে তারা বালু উত্তোলন ও পাচার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। মাতামুহুরী নদীর বাঘগুজারা বাজারের পুর্ব ও পশ্চিম পাশে প্রায় ৫কিলোমিটারের মধ্যে একাধিক পয়েন্টে শ্যালো মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন অব্যহত রেখেছে একটি বালু খেকো সিন্ডিকেট। সহকারী কমিশনার (ভুমি) পেকুয়ার মীকি মার্মা কয়েকটি পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে মেশিনসহ যন্ত্রপাতি নষ্ট করে দেয়। বালু উত্তোলনে জড়িত দুইজন শ্রমিককেও ভ্রাম্যমান আদালতে দুইমাস সাজা দিয়েছে। কিন্তু রহস্যজনক কারনে এ দুইজনের ব্যবসায়ীক বালু উত্তোলন ও পাচার রোধে কোন ধরনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন করেননি। জানাগেছে,মাতামুহুরী নদীর সৈকতপাড়া পয়েন্টে শ্যালো মেশিন বসিয়ে গত একমাস ধরে অবৈধ উপায়ে বালু উত্তোলন করে পেকুয়ার বিভিন্ন প্রান্তে পাচার করা হচ্ছে। বসতবাড়ির ভিটে ভরাট, পুকুর ভরাটও করা হচ্ছে। এছাড়া প্রতিদিন ডাম্পার যোগে বিভিন্ন প্রান্তে বালু বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। বালু উত্তোলন ও পাচার কাজে নিয়োগ দেয়া হয়েছে সদর ইউনিয়নের মুরারপাড়া এলাকার জনৈক রাসেল নামের এক ব্যক্তিকে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ভাইস চেয়ারম্যান ও আওয়ামীগের নাম ভাঙ্গিয়ে বালু উত্তোলন অব্যহত রাখলেও প্রশাসন রয়েছে নীরব ভুমিকায়। আসলে প্রশাসন শক্তের ভক্ত,নরমের জম। এদিকে প্রতিদিন বালি বোঝাই গাড়ি অবাধে চলাচলে বেড়িবাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। গ্রামীন সড়কও নষ্ট হয়ে গেছে। সড়কের ইট উঠে গিয়ে নড়বড়ে অবস্থ। রাস্তার ধুলোয় আশেপাশের বাড়ি ঘরের লোকজন ঘর থেকে বেরোনো দায় হয়ে পড়েছে। বর্ষা মৌসুমে বেড়িবাঁধ তলিয়ে যাওয়ার শংকায় রয়েছে গ্রামবাসি। তারা দ্রুত এ কাজ বন্ধে প্রশাসনের অভিযান পরিচালনা এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জোর দাবী জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে রাসেল জানায়, আমি বেতনভুক্ত কর্মচারী। মেশিনটা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের। বালুগুলি তারা তুলছেন। এ ব্যাপারে পেকুয়া উপজেলা পরিষদ নারী ভাইস চেয়ারম্যান উম্মে কুলসুম মিনু মুঠোফোনে এ প্রতিবেদককে বলেন, বালু উত্তোলনের বিষয় এমপি মহোদয় জানেন। প্রধান শিক্ষক আর আমি মিলে ব্যবসা করছি। প্রশাসনকে লাইন করেছি। নদীতে আরো একাধিক পয়েন্টে বালু তোলা হচ্ছে। প্রশাসনকে এমপি বলে দিয়েছেন। অন্যদের কাজ বন্ধ করে দিলেও আমাদেরটা বন্ধ করে দেয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *