পেকুয়ায় বদ্ধ জলমহাল দখলে নিতে মরিয়া প্রভাবশালী মহল

পেকুয়া প্রতিনিধি
কক্সবাজারের পেকুয়ায় প্রাচীনতম একটি খাল দখলে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে একটি প্রভাবশালী মহল। খালটির নাম রূপাই খাল। ৬০দশকের আগে থেকেই ওই খালে রূপালী ইলিশের বিচরণ ছিল বেশ কোলাহল। মাছ ধরার মৌসুম আসলে জেলেরা গানের তালে তালে জাল ফেলে ইলিশ মাছ শিকার করে অর্থ আয় করে জীবিকা নির্বাহ করে। পরে প্রবাহমান রূপাই খালের উপর দিয়ে সৃষ্টি হয় ভোলা খাল। এতে রূপাই খাল দ্বিখন্ডিত হয়ে রূপ নেয় রূপাই খাল(১) পেকুয়া ও অপর অংশটি রূপাই খাল(২) মগনামা। ঐতিহ্যবাহী রূপাই খালটির স্থানীয়ভাবে পরিচিত নাম ফরুখের দ্বিয়া। বর্তমানে এটি বদ্ধ জল মহাল। ওই বদ্ধ জলমহাল থেকে সংসারের ঘানি টানতে কেউ বাঁশের ভেলায় চড়ে, কেউবা জাল বেয়ে, আবার কেউবা নৌকা দিয়ে মাছ শিকার করে।

পেকুয়া উপজেলার বদ্ধ জলমহালটি শ্রেণী পরিবর্তন করে কতিপয় প্রভাবশালী মহল চিংড়ি/মৎস্য চাষের জমি উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর থেকে ইজারা নেওয়র জন্য অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে কয়েক শত জেলে পরিবারে চরম হতাশা বিরাজ করছে।
তথ্য সংগ্রহ জানা যায়, পেকুয়া সদরের রূপাই খাল নামের বদ্ধ জল মহাল থেকে ৪/৫টি গ্রামের হাজার হাজার জেলে যুগ যুগ ধরে মৎস্য আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। বিগত সরকারের আমলেও ওই প্রভাবশালী মহল দীর্ঘ মেয়াদী ইজারা নেয়ার চেষ্টা করেছিল। স্থানীয় এলাকাবাসীর তোপের মূখে পড়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ইজারা দিতে পারেনি। এতে প্রভাবশালী মহলের রাহুগ্রাস থেকে মুক্তি পায় ওই বদ্ধ জলমহাল নামের রূপাই খালটি।

এদিকে রূপাই খালটি ইজারা নেয়ার জন্য সিন্ডিকেট করে প্রভাবশালী মহল নতুন করে তৎপরতা শুরু করেছে। রুপাই খালের আশপাশ এলাকায় জেলেদের মাঝে আতংক সৃষ্টি হয়েছে।
তথ্য সংগ্রহে জানা গেছে, উপজেলার সদর ইউনিয়নের পেকুয়া মৌজার বি,এস ১নং খতিয়ানের ৭৫২৩ দাগের নং দাগের ঐতিহ্যবাহী রূপাই খাল(০১) প্রায় দুইশত বছর ধরে স্থানীয় হাজার কয়েকশত জেলে পরিবার মৎস্য আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। এছাড়া খালটি নিত্য প্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহার করে স্থানীরা । সম্প্রতি একটি প্রভাবশালী মহল সরকার দলের নাম ভাঙ্গিয়ে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে মিথ্যা ও বানোয়ট প্রতিবেদন দাখিল করে ইজারা নেয়ার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে।

স্থানীয়রা জানান, পেকুয়া সদর ইউনিয়নের গোঁয়াখালী দিয়াপাড়া এলাকার আফতাব উদ্দিনের ছেলে আমির আশরাফ রুবেল ভূমি অফিসের কতিপয় কর্মকর্তা কর্মচারীদের সহযোগিতায় ওই বদ্ধ জলমহালকে চিংড়ি চাষের জমি উল্লেখ করে একটি প্রস্তাব প্রেরণ করেন। যার স্মারক নং ৯৮ ও ৪৩৪ । সরকারী চিংড়ি জমি ইজারা নীতিমালা অনুযায়ী বদ্ধ জলমহাল কোন ব্যক্তি ও সংস্থাকে ইজারা দেওয়ার নিয়ম নেই। ওই রূপাই খাল থেকে মৎস্য আহরণকারী স্থানীয় জেলেদের মধ্যে খোকন, হারুন, কাইছার, জসিম, নুরুল ইসলাম, হামিদসহ আরও অনেকে বলেন, রূপাই খাল থেকে প্রতিদিন মাছ আহরণ করে তারা সংসার চালায়। জনৈক রুবেল একটি মৎস্য সমিতির নাম ভাঙ্গিয়ে কয়েক জনের সিন্ডিকেটে খালটি ইজারা নিয়েছে বলে শুনেছি। জন মানুষের উপকারী এই খালটি প্রভাবশালী মহলকে স্থায়ী ইজারা দেওয়া হয় তাহলে অর্থ উপার্জনের একমাত্র মাধ্যম মৎস্য/চিংড়ি আহরণ আজীবনের জন্য বন্ধ হয়ে যাবে।

সচেতন মহলের দাবী কোন ব্যক্তি যদি রূপাই খাল ইজারা নেয় তাহলে আমরা পুরো এলাকাবাসী এর বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলনসহ কঠোর কর্মসূচি দেব।

এবিষয়ে পেকুয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এম জাহাঙ্গীর আলম জানান, পেকুয়ার রূপাই খাল দরিদ্র জনগোষ্টি ও জেলে পরিবারের জীবিকা নির্বাহের জন্য অর্থ উপর্জান ক্ষমতার এক মাত্র অবলম্বন। ইজারা নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আমি অবগত নই। তবে কেউ ব্যক্তি/সংস্থার স্বার্থের জন্য এই বদ্ধ জল মহাল ইজারা নেওয়ার চেষ্টা করলে ইজারা বাতিলের পক্ষে যথাযত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *